বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

চাঁদে ফিরছে নাসা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন চন্দ্র কৌশলের বিস্তারিত

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
চাঁদে ফিরছে নাসা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন চন্দ্র কৌশলের বিস্তারিত

নাসা আজ বুধবার চারজন নভোচারীকে নিয়ে তাদের ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ চন্দ্র মিশনের উদ্বোধন করতে যাচ্ছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১৯৭২ সালের পর গভীর মহাকাশে মানুষের এটিই প্রথম যাত্রা এবং এটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান পরিস্থিতি, অভিবাসন এবং অর্থনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত।

ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে যে একটি সফল আর্টেমিস মিশন চীনের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং জাতীয় ঐক্যের একটি বিরল মুহূর্ত তৈরি করবে। নাসার মতে এই মিশনটি মূলত চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে পৌঁছানোর জন্য একটি সোপান হিসেবে কাজ করবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আর্টেমিস প্রোগ্রামের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তার দ্বিতীয় মেয়াদে লক্ষ্যটি এখন সরাসরি চাঁদের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে ফিরে যাওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেখানে একটি স্থায়ী আউটপোস্ট স্থাপনের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউসের মতে মহাকাশে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা জাতির শক্তি, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির একটি মাপকাঠি।

তবে এই সরকারি আদেশে চীনের সাথে প্রতিযোগিতার কথা সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও নাসার প্রশাসক জেয়ার্ড আইজ্যাকম্যান গত ২৪ মার্চ এক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমেরিকা মহাকাশের নেতৃত্বে চীনের মতো একটি ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এবারের লক্ষ্য কেবল পদচিহ্ন রেখে আসা নয় বরং সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করা।

মহাকাশ জয়ের এই নতুন দৌড় কেবল আদর্শগত নয় বরং এর পেছনে একটি বিশাল অর্থনৈতিক এবং সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্তন নাসা প্রশাসক শন ও‍‍`কিফ বিবিসিকে জানিয়েছেন যে যারা চাঁদে সফলভাবে অবতরণ করবে তারা সেখানকার সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। বিজ্ঞানীদের মতে চাঁদে প্রচুর পরিমাণে ‘হিলিয়াম-৩’ রয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী পারমাণবিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর পরিচালনায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

বর্তমানে এক গ্রাম হিলিয়াম-৩ এর বাজারমূল্য ২০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি যা একে পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান সম্পদে পরিণত করেছে। এছাড়া চাঁদে বরফ আকারে পানি রয়েছে যা রকেটের জ্বালানি হিসেবে এবং ইলেকট্রনিক্স ও ক্লিন এনার্জি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়াম ও প্ল্যাটিনাম আহরণে সহায়ক হতে পারে।

মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এই মিশনকে ১৮০০-এর দশকের গোড়ার দিকে পশ্চিম আমেরিকায় পরিচালিত ‘লুইস এবং ক্লার্ক’ অভিযানের সাথে তুলনা করছেন। সিআইএ-র প্রাক্তন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ক্লেটন সোপের মতে চাঁদের প্রকৃত আর্থিক মূল্য এখনও পুরোপুরি নির্ধারণ করা না গেলেও চীনের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লিজ হাস্টন জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ প্রযুক্তিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে অবতরণের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে ছিল, ২০২৬ সালেও ঠিক একই ধরণের মেরুকরণের মধ্যে এই অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ২০২৬ সালের এই আর্টেমিস মিশন আবারও আমেরিকানদের মধ্যে একটি সম্মিলিত জাতীয় গর্ব তৈরি করতে পারে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর এসথার ব্রিমার বিবিসিকে বলেন যে মহাকাশ কর্মসূচি এমন একটি ক্ষেত্র যা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আমেরিকানরা একসাথে উপভোগ করতে

পারে।

মহাকাশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডেভিড গার্ডেস আশা প্রকাশ করেছেন যে ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় নভোচারীদের একটি দল নিয়ে চাঁদে ফিরে যাওয়া দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করবে। আর্টেমিস-২ মিশনের এই চার নভোচারীর মধ্যে তিনজন আমেরিকান এবং একজন কানাডিয়ান রয়েছেন যারা আজ মানব ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচনার পথে রওনা হচ্ছেন।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!