মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী ফেডারেল প্যানেল মেক্সিকো উপসাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের পুরনো বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সুরক্ষা আইন শিথিল করার পক্ষে ভোট দিয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
`গড স্কোয়াড` নামে পরিচিত এই কমিটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত মঙ্গলবার এই আইনি ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে ইরান সরকারের সাম্প্রতিক শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করা
এখন সময়ের দাবি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হোর্মুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গত চার বছরে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ প্যানেলকে জানিয়েছেন যে হোর্মুজ প্রণালী বিশ্বের ব্যস্ততম তেলের রুট এবং ইরানের শত্রুতামূলক আচরণের কারণে শক্তিশালী দেশীয় তেল উৎপাদন এখন একটি জাতীয় নিরাপত্তা অপরিহার্যতায় পরিণত হয়েছে। যদিও এই ছাড়ের অনুরোধ যুদ্ধের আগেই করা হয়েছিল, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে যে এর ফলে `রাইস তিমি` বা রাইস হোয়েল চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাত্র ৫১টি রাইস তিমি জীবিত আছে এবং এই ড্রিলিং কার্যক্রম তাদের অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।
১৯৭৩ সালে পাস হওয়া বিপন্ন প্রজাতি আইন বা এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস অ্যাক্ট অনুযায়ী বিপন্ন প্রাণীদের আবাসস্থলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই কমিটি আইনটি বাইপাস করার ক্ষমতা রাখে। কমিটির ৫৩ বছরের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির সরকারি বিষয়ক পরিচালক ব্রেট হার্টল বলেন যে অধিকাংশ আমেরিকান জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের মুনাফার জন্য বিপন্ন তিমি এবং সামুদ্রিক জীবনকে উৎসর্গ করার বিরোধী।
রাইস তিমি ছাড়াও মেক্সিকো উপসাগর বিভিন্ন ধরণের কচ্ছপ, জায়ান্ট মান্তা রে এবং বিরল প্রজাতির প্রবালের আবাসস্থল।মার্কিন খনি শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থা আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া উড অবশ্য দাবি করেছেন যে তাদের শিল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ যুক্তি দিয়েছেন যে পরিবেশবাদী দলগুলোর আইনি লড়াই তেল ও গ্যাস উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করছিল
এবং এই ছাড়ের ফলে দায়িত্বশীল সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে গত বছর ন্যাশনাল মেরিন ফিশারিজ সার্ভিস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে মেক্সিকো উপসাগরে ড্রিলিং কার্যক্রম বাড়লে রাইস তিমির বিলুপ্তি নিশ্চিত হতে পারে। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগে প্রস্তাবিত জাহাজের গতি কমানোর মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো আর কার্যকর থাকবে না। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :