অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিরল ভাষণে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সময় হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও অস্ট্রেলিয়া এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী দেশ নয় কিন্তু হোর্মুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাধারণত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংকটের মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা এভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে থাকেন যা সর্বশেষ কোভিড মহামারি এবং ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় দেখা গিয়েছিল।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয় হোর্মুজ প্রণালী দিয়ে যা বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক পেট্রোল স্টেশনে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার হিড়িক পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অকারণে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে সামনের মাসগুলো খুব একটা সহজ হবে না কারণ কোনো সরকারের পক্ষেই বৈশ্বিক এই চাপ থেকে জনগণকে পুরোপুরি মুক্ত রাখা সম্ভব নয়।
জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলীয় সরকার বেশ কিছু সাময়িক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর ধার্যকৃত কর বা ফুয়েল এক্সাইজ অর্ধেক করা। এছাড়া আগামী তিন মাসের জন্য ভারী যানবাহনের ওপর থেকে রোড ইউজার চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি নতুন `ন্যাশনাল ফুয়েল সিকিউরিটি প্ল্যান` বা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী জনগণকে অপ্রয়োজনীয় তেলের ব্যবহার কমিয়ে সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন যাতে জরুরি শিল্পগুলোতে তেলের সরবরাহ বজায় রাখা যায়।সামনে ইস্টার ছুটিকে কেন্দ্র করে অনেক পর্যটক রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলবানিজ তাদের উদ্দেশে বলেন যে তারা যেন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখেন তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল যেন গাড়িতে না ভরেন।
তিনি বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের প্রয়োজনে অন্যদের কথা ভাবার অনুরোধ জানান। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য ট্রেন বা বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করাকে দেশপ্রেমের অংশ হিসেবেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অস্ট্রেলীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ধরণের সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :