বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

লেবাননে বিস্ফোরণে দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
লেবাননে বিস্ফোরণে দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত

দক্ষিণ লেবাননে টহলরত শান্তিরক্ষী

গত সোমবার ৩০ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের বানি হাইয়ান এলাকায় এক রাস্তার ধারের বিস্ফোরণে দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা প্রধান জিন-পিয়েরে ল্যাক্রোইক্স এক প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই বিস্ফোরণে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী বা ইউনিফিলের একটি যান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত দুই সেনার নাম ক্যাপ্টেন জুলমি আদিত্য ইস্কান্দার এবং ফার্স্ট সার্জেন্ট মুহাম্মদ নুর ইচওয়ান বলে ইন্দোনেশীয় সংবাদ সংস্থা অন্তরা নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনায় আরও দুই শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।ল্যাক্রোইক্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি আইইডি বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বলে ধারণা করা হচ্ছে যা কনভয়টিকে লক্ষ্য করে বসানো হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় কোনো প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

এর আগে গত রবিবার ২৯ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের আদচিত আল কুসায়ের এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা গোলার বিস্ফোরণে চিফ প্রাইভেট ফরিজাল রোমাধন নামে আরও এক ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হন। ইউনিফিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে উভয় ঘটনার কারণ এবং উৎস উদ্ঘাটনে তারা বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

এই হতাহতের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের স্থল ও বিমান হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। হিজবুল্লাহ বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোমবারের বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে।

আইডিএফ জানায় যে বানি হাইয়ান এলাকায় তাদের কোনো সৈন্য উপস্থিত ছিল না এবং সেখানে কোনো বিস্ফোরক তাদের পক্ষ থেকে রাখা হয়নি।জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে এই শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

তিনি লেবানন ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পাশাপাশি ইউনিফিলের আলোচনার পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিফিল বর্তমানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যবর্তী ব্লু লাইনে বা ডি ফ্যাক্টো সীমান্তে টহল দেয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও এই অঞ্চলে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে যা শান্তিরক্ষীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!