১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ঘরের ভেতরে গাছপালা বা হাউসপ্ল্যান্ট রাখা এখন কেবল শখ নয় বরং এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির একটি কার্যকরী মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওস্টারশায়ারের মালভার্ন এলাকার ৩৯ বছর বয়সী জনি বলচন্দানি তার বাড়ির একটি অতিরিক্ত ঘরকে গ্রিনহাউসে রূপান্তর করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রায় ১০ লক্ষ অনুসারী রয়েছে। বলচন্দানি বিবিসিকে জানান যে গত দুই দশক ধরে গাছপালার এই নেশা তার জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে যা তাকে প্রতিদিনের ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
তার মতে গাছপালার সান্নিধ্যে থাকলে মানুষ অনেক বেশি সৃজনশীল এবং সুখী অনুভব করে যা আধুনিক জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে এক ধরণের ইতিবাচক পলায়ন হিসেবে কাজ করে।বার্মিংহামের কিংস হিথের ‘রুট ১৩’ নামক একটি গাছের দোকানের মালিক ডেভ এবং ক্যাটি উইলিয়ামস জানান যে শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন ফুলের চেয়ে বেশি গাছ কিনছে।
তাদের বাড়িতে প্রায় ২৫০টি গাছ রয়েছে এবং তারা লক্ষ্য করেছেন যে গাছের যত্ন নেওয়া মানুষের মধ্যে এক ধরণের মমত্ববোধ তৈরি করে যা অনেকটা ‘টবে এক চিলতে আনন্দ’ পাওয়ার মতো। রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটির (আরএইচএস) গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সবুজায়ন শারীরিক, সামাজিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গাছের সান্নিধ্যে থাকলে মানুষের রক্তচাপ কমে এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে কেবল ঘর নয় বরং করপোরেট অফিসগুলোতেও গাছের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লিসেস্টার ভিত্তিক কোম্পানি ‘প্ল্যান্ট প্ল্যান’ জানিয়েছে যে গত পাঁচ বছরে তাদের গাছের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। লকডাউনের সময় মানুষ প্রকৃতির সাথে যে গভীর সংযোগ অনুভব করেছিল তা ধরে রাখতে এখন অফিসগুলোতে ম্যাস ওয়াল বা ডেস্কের পাশে গাছ রাখার প্রবণতা বাড়ছে।
আরএইচএস ড্রাগন ট্রি, ইংলিশ আইভি এবং রাবার প্ল্যান্টের মতো কিছু গাছ ঘরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে যা বাতাসের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়িতে যত বেশি গাছ থাকবে মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা এবং প্রশান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :