আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদেরকে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং ঈমানের মতো মহামূল্যবাস সম্পদ দিয়ে ধন্য করেছেন। গত বছরের ঠিক এমন দিনগুলোতে আমরা সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম পবিত্র রমজানুল মোবারকের আগমনের জন্য, হৃদয়ে লালন করছিলাম এক বুক আশা যে, রমজান এলে আমরা নিজেদের জীবনকে নতুন করে সাজাবো, রবের দরবারে চোখের পানি ফেলে সব গুনাহ মাফ করিয়ে নেব।
সেই দিনটি থেকে শুরু করে আজকের দিনটি পর্যন্ত পূর্ণ একটি বছর আমাদের জীবন থেকে অতিবাহিত হয়ে গেছে, ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে খসে পড়েছে ৩৬৫টি দিন, অথচ আমরা টেরও পেলাম না যে কীভাবে সময়ের তীব্র স্রোতে ভেসে গেল এতগুলো দিন, এতগুলো রাত, এতগুলো মুহূর্ত। এই দীর্ঘ একটি বছরে আমরা আমাদের জীবনের ঝুলিতে ভালো-মন্দ যা কিছুই কামাই করেছি, দিনগুলো কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষা করেনি বা থেমে থাকেনি, বরং আমাদের ভালো-মন্দ আমলগুলো সঙ্গে নিয়েই সেগুলো জীবন থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর পবিত্র কালামে পাকের মধ্যে সময়ের এই আবর্তনের কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, ‘আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি, যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদের গ্রহণ করতে পারেন, আর আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না’ (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৪০)। ইমাম ইবনে কাসির রহমতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে বলেছেন যে, আমাদের উপর দিয়ে দিনগুলো বয়ে যায়, চলে যায় দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, আর এভাবেই আমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, অর্থাৎ মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে আর কোনো ফেরার পথ নেই।
আপনি যদি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ একত্রিত করেন, যদি পাহাড় সমান স্বর্ণমুদ্রাও খরচ করেন, তবুও আমাদের জীবন থেকে অতিবাহিত হয়ে যাওয়া সেই মুহূর্তগুলো, সেই সেকেন্ডগুলো আর কখনোই ফিরে আসবে না। এটাই সময়ের নির্মম বাস্তবতা। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেরই একটি নির্দিষ্ট সীমা বা আজাল রয়েছে, যার পরে আর এক মুহূর্তও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার-আপনার উপর সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো, তিনি আমাদের জীবনকে দীর্ঘায়িত করেছেন এবং আবারও এই পবিত্র রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। একটু ভেবে দেখুন, গত রমজানে আমাদের সাথে কত মানুষ একত্রে ইফতার করেছে, তারাবি পড়েছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে। কিন্তু আজ তারা কোথায়? কত মানুষ তো এমনও আছে, যারা এই রমজানের আগেই মৃত্যুবরণ করেছে, কত টগবগে যুবক, কত সুস্থ মানুষ আজ মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, অন্ধকার কবরের গহ্বরে তারা বিলীন হয়ে গেছে। তাদের আর সুযোগ নেই একটি সিজদা করার, তাদের আর সুযোগ নেই একবার আল্লাহ বলে ডাকার।
অথচ আল্লাহ আপনাকে-আমাকে সেই সুযোগটি দিয়েছেন। এই সুযোগ কি আমরা হেলায় হারাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচটি বিষয় আসার পূর্বে পাঁচটি জিনিসের মূল্যায়ন করো: বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনের, অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার, দারিদ্র্যতার পূর্বে স্বচ্ছলতার, ব্যস্ততার পূর্বে অবসরের এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনের’ (মুস্তাদরাকুল হাকিম, ৭৮৪৬)। এই হাদিসের প্রতিটি শব্দ আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে। আজ আমরা সুস্থ আছি, কিন্তু কাল অসুস্থ হয়ে যেতে পারি; আজ আমরা জীবিত আছি, কিন্তু আগামী রমজানে আমরা কবরের বাসিন্দা হতে পারি। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে গনীমত বা সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কাজে লাগানোর প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
মুসনাদে আহমাদ ও নাসাই শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে রমজানের আগমনের সুসংবাদ দিতেন, তিনি বলতেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান মাস এসেছে, এটি একটি বরকতপূর্ণ মাস, এই মাসে রোজা রাখা আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন, এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়, এই মাসে এমন একটি রজনী আছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১৪৮)।
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এই হাদিসটি মানুষকে রমজান মাসের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য এবং হৃদয়ে ব্যাকুলতা সৃষ্টি করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস। একজন মুমিন হিসেবে আমরা কীভাবে এই মাসের সুসংবাদ গ্রহণ না করে থাকতে পারি, যেখানে জান্নাতের দরজাগুলো আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়? পাপীরা কেনইবা খুশি হবে না, যেখানে তাদের শাস্তির উৎস জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়? একজন বিবেকবান ব্যক্তি কেনইবা সুসংবাদ পাবে না, যেখানে তার আজন্ম শত্রু শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়? রমজানের এই পবিত্র সময়গুলোর সাথে বছরের অন্য কোনো সময়ের তুলনা হয় না। এটি এমন এক মাস, যার প্রতিটি মুহূর্ত হীরা-মুক্তার চেয়েও দামী।
মুয়াল্লা ইবনুল ফজল রহমতুল্লাহি আলাইহি সালাফদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সালাফরা বা আমাদের পূর্বসূরিরা বছরের ছয় মাস আল্লাহ তাআলার কাছে কেবল এই দোয়াই করতেন যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত হায়াত দান করুন, রমজান পাওয়ার তৌফিক দিন। আর রমজান চলে যাওয়ার পর বাকি ছয় মাস তারা এই দোয়া করতেন যে, হে আল্লাহ! রমজানে আমরা যে সামান্য আমল করেছি, তা আপনি কবুল করে নিন। ইয়াহইয়া বিন কাসির রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তাদের একটি বিশেষ দোয়া ছিল এমন, ‘হে আল্লাহ, আমাকে রমজান পর্যন্ত নিরাপদ রাখুন, রমজানকে আমার জন্য নিরাপদ রাখুন এবং আমার কাছ থেকে রমজানকে কবুল করে নিন’ (হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/৭১)।
রমজান মাস এলে আমাদের সমাজের চিত্র আর আমাদের পূর্বসূরি সালাফদের সমাজের চিত্রের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। আমরা রমজানকে বরণ করি ভোগের মাস হিসেবে, আর তাঁরা বরণ করতেন ত্যাগের মাস হিসেবে। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি সহীহ বুখারী সংকলন করেছেন, তিনি নিজের জবানের পবিত্রতা সম্পর্কে বলেন, ‘যেদিন থেকে আমি বালেগ হয়েছি বা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছি, সেদিন থেকে আমি কোনো মুসলমানের গীবত করিনি’। সুবহানাল্লাহ! অথচ আজ আমাদের রোজা থাকা অবস্থায়ও দিন কাটে অন্যের সমালোচনা আর গীবত করে। ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমি কখনো সত্য কিংবা মিথ্যা কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করিনি’। অর্থাৎ আল্লাহর নামের মর্যাদা তাদের কাছে এত বেশি ছিল যে, তারা কথায় কথায় কসম করতেন না।
অন্যদিকে আমাদের অবস্থা হলো, আমরা সামান্য দুনিয়াবি স্বার্থে মিথ্যা কসম খেতেও দ্বিধা করি না। অনেকে বিখ্যাত বুজুর্গ মুহাম্মদ বিন ওয়াসি রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনি কখনো দেয়ালে বা বালিশে হেলান দেন না কেন? তিনি উত্তরে এমন একটি কথা বলেছিলেন যা আমাদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেয়ার মতো। তিনি বললেন, ‘হেলান তো দেয় সেই ব্যক্তি যে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যার কোনো ভয় নেই। কিন্তু আমি তো এখনো পর্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত, আমি তো জানি না আমার রবের সামনে আমার কী অবস্থা হবে’। হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি এর নিকট একবার পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করা হলো—‘আর যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে’ (সূরা আল-মুমিন, ৪০:৪৭)। জাহান্নামীদের ঝগড়া-বিবাদের এই দৃশ্য কল্পনা করে তিনি ভয়ে এতটাই কাতর হয়ে পড়লেন যে, তিনি সাথে সাথে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। কুরআনের আয়াত তাদের হৃদয়ে তীরের মতো বিদ্ধ হতো, আর আমরা কুরআন পড়ি কিন্তু আমাদের লোমও খাড়া হয় না।
প্রখ্যাত তাবেঈ ইয়াজিদ আর-রাক্কাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের হিসাব গ্রহণ করতেন এবং নিজেকে সম্বোধন করে বলতেন, ‘হে ইয়াজিদ! তোমার মৃত্যুর পর কে তোমার পক্ষ থেকে সালাত আদায় করবে? হে ইয়াজিদ! তোমার মৃত্যুর পর তোমার পক্ষ থেকে কে সিয়াম পালন করবে? হে ইয়াজিদ! তোমার মৃত্যুর পর তোমার পক্ষ থেকে কে তোমার রবকে সন্তুষ্ট করবে?’ এরপর তিনি নিজেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠতেন। এমনই ছিল সালাফদের অবস্থা, তাদের চিন্তা এবং তাদের কান্না। আর আমার এবং আপনার অবস্থা তাহলে কী? একটু মিলিয়ে দেখুন।
আমরা নতুন নতুন পোশাক পরিধান করি, ইফতারে ডজন ডজন আইটেমের মজাদার খাবার খাই, সেহরিতে পেট পুরে খাই, সব সময় চোখের গুনাহ, কানের গুনাহ আর হারামে লিপ্ত থাকি। আল্লাহর কঠিন হুঁশিয়ারির কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই এবং লম্বা লম্বা আশা করে থাকি। আমরা আশা করি, আমরা এমনিতেই জান্নাতে চলে যাব, আল্লাহর রহমত আমাদের ঘিরে রাখবে, অথচ রহমত পাওয়ার মতো কোনো কাজ আমরা করি না। এটা আমাদের কেমন আয়েশী জীবন? কেন এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতি আমাদের এত মায়া? আল্লাহর ভয়ে কেন আমাদের চোখ দিয়ে সামান্য এক ফোটা পানিও আসে না? শেষ রাতে আল্লাহর সামনে আমরা আর এখন দণ্ডায়মান হই না, তাহাজ্জুদের জায়নামাজ আমাদের চোখের পানিতে ভিজে না। জিকিরের মজলিসগুলোতে আমরা এখন আর ভিড় জমাই না।
হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সম্পর্কে আবু নাইম বলেন, দিনের বেলায় তিনি অকাতরে দান-খয়রাত করতেন, নিরবিচ্ছিন্ন রোজার আমল করতেন, আর রাতের বেলায় সালাতে মনোযোগী থাকতেন। যেদিন তাকে বিদ্রোহীরা শহীদ করে, সেদিনও তিনি রোজা ছিলেন। যখন তাকে শহীদ করা হয়, তখন তাঁর হাতে পবিত্র কুরআনে কারীম উন্মুক্ত ছিল এবং তখন তার দাড়ি ও গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। হযরত আবু তালহা আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হযরত আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় জিহাদের ময়দানে ব্যস্ত থাকার কারণে নফল রোজা খুব একটা রাখতেন না, পাছে দুর্বল হয়ে পড়েন।
কিন্তু যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে যায়, তখন থেকে আমি তাকে বছরে মাত্র দুই ঈদের দিন ছাড়া অন্য কোনো সময় রোজা ভঙ্গ করতে দেখিনি। শ্রেষ্ঠ আবেদ ইমাম আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে নাফে রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সফর অবস্থায় রোজা রাখতেন না কষ্টের কারণে, কিন্তু মুকিম বা বাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি কখনোই রোজা ছাড়তেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে বলেন, ‘আব্দুল্লাহ কতই না উত্তম বান্দা!’ (সহীহ বুখারী, ১১২১)।
আমাদের জীবনে রমজান হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোজনবিলাস আর কেনাকাটার উৎসব। এই বৈপরীত্য আমাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়ির অবস্থা এমন ছিল যে, মেহমান না থাকলে বাড়ির সবাই রোজা রাখতেন, তাই দিনের বেলা চুলার আগুন জ্বলে উঠত না। আজ আমাদের তরুণদের রাত কাটে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ভিডিও গেম আর ফেসবুকে সময় নষ্ট করে, আর সকাল কাটে ঘুমে বিভোর থেকে। সেহরি খেয়ে ঘুমায়, জোহরের খবর থাকে না। ব্যবসায়ীদের কাছে রমজান মানে টাকা কামানোর মৌসুম।
মায়েদের সারাদিন কাটে রান্নাঘরে ইফতারের আইটেম তৈরিতে। রমজানের শেষ দশকগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতেই রয়েছে লাইলাতুল কদর, অথচ আমরা সেই শেষ দশকটাই মার্কেটে ঘুরে ঘুরে, কেনাকাটা করে কাটিয়ে দেই। ঈদের শপিং আমাদের কাছে লাইলাতুল কদরের চেয়ে বেশি দামী হয়ে যায়। প্রিয় ভাই ও বোন, এটাই হচ্ছে বর্তমানে আমাদের রমজান পালনের করুণ বাস্তবতা। ইবনুল কাইয়িম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সিয়াম হলো মুত্তাকিদের জন্য লাগাম স্বরূপ যা তাদের পাপে লিপ্ত হতে বাধা দেয়, যোদ্ধাদের জন্য ঢাল স্বরূপ যা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে, আর আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য বাগান স্বরূপ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব’ (সহীহ বুখারী, ৭৪৯২)। আসুন, আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি, গত রমজান থেকে এই রমজান পর্যন্ত আমাদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে? আমরা কি তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছি? এই রমজান যেন আমাদের জন্য পরিবর্তনের মাস হয়, মুক্তির মাস হয়। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছার তৌফিক দিন এবং এই মাসের হক আদায় করার সামর্থ্য দিন। আমীন।

আপনার মতামত লিখুন :