বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

বিশ্ব সংবাদ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা: বৈশ্বিক অস্থিরতার বিশ্লেষণ

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা: বৈশ্বিক অস্থিরতার বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাতের দাবানল | ছবি Ai

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—আমরা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? ১ এপ্রিল হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যাপক বিস্তার এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বিশেষ করে ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার পর থেকে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনা আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও ইরান বলছে তারা কেবল তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে, কিন্তু মিত্র দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ সংঘাতকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ছোট একটি ভুল পদক্ষেপও মহাপ্রলয় ডেকে আনতে পারে। এসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণ এবং তার কঠোর অবস্থান আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি চীন বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো সরাসরি ইরানের পক্ষে মাঠে নামে, তবে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

ব্রিটেন ইতিমধ্যে এই সংঘাতের রেশ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলার খবরের পর ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে ‘অপারেশন লুমিনাস’ জোরদার করেছে। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, আটটি টাইফুন এবং আটটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিনরাত ভূমধ্যসাগরের আকাশসীমায় টহল দিচ্ছে। এই সামরিক সজ্জা কেবল প্রতিরক্ষা নয় বরং সম্ভাব্য বড় যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে কি সত্যিই বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে সরাসরি বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণার চেয়ে বর্তমানে ছায়াযুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ারের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতাই বেশি। কিন্তু ১ এপ্রিল ট্রাম্পের ভাষণে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে অন্যান্য দেশের ওপর দায় চাপানোর বিষয়টি নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করছে।

শেষ পর্যন্ত বিশ্বযুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রধান পরাশক্তিগুলোর ধৈর্যের ওপর। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দেশ সরাসরি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যদি জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক পথগুলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ থাকে, তবে সামরিক যুদ্ধের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক যুদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবানল যদি এখনই নেভানো না যায়, তবে ২০২৬ সাল মানব ইতিহাসের জন্য এক রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই সংকটের সমাধান কেবল কূটনৈতিক টেবিলেই সম্ভব, অন্যথায় বিশ্ব এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে যা কেবল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপক হিসেবেই ইতিহাসে ঠাঁই পাবে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!