বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ার বাজারে ধস

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ার বাজারে ধস

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উর্ধ্বমুখী।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ১ এপ্রিল বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প জানান যে যুদ্ধে তার মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে রয়েছে।

তবে তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রেসিডেন্টের ভাষণের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই এর দাম ৪.৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬.০২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কিছুটা আশা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান তাতে পানি ঢেলে দিয়েছে। ইন্টারক্যাপিটাল এনার্জির বিশ্লেষক আলবার্তো বেলোরিন জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ভাষণে না থাকায় বাজার দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প তার ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমেরিকা এখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই এই অঞ্চলের তেল যাদের প্রয়োজন, সেই দেশগুলোকেই হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। উল্লেখ্য যে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই সরু জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিনা সলিমান-হান্টার মনে করেন, ট্রাম্পের এই সংকেত এটাই প্রমাণ করে যে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আগামী মাসগুলোতেও সংকটের মুখে থাকবে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৩.৫ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ১ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এশিয়ার দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও আজ বৃহস্পতিবার বাজার নেতিবাচকভাবে খোলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ডাও জোনস এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার সূচক ইতিমধ্যেই প্রায় ১ শতাংশ কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন, তবে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!