বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স এবার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ১ এপ্রিল বুধবার প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-র জন্য একটি গোপন আবেদন জমা দিয়েছে।
রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে স্পেসএক্সের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। বিশ্লেষকদের ধারণা, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৭৫১ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে বৈশ্বিক করপোরেট ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা।
স্পেসএক্স মূলত রকেট তৈরি, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের কাজ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি আগামী জুন মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসইসি-তে এই গোপন আবেদনের অর্থ হলো, স্পেসএক্স এখনই জনসাধারণের কাছে তাদের বিস্তারিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ না করেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়া নিতে পারবে।
এরপর বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য তারা বিশেষ সভার আয়োজন করবে। আইপিও-র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ৫০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।ইলন মাস্কের মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে স্পেসএক্সের সম্পর্ক ইদানীং আরও গভীর হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ স্পেসএক্সের সাথে একীভূত হয়।
এই একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের অভ্যন্তরীণ বাজারমূল্য ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) ইতিমধ্যেই এক্সএআই-এর অধীনে কাজ করছে। পিচবুক-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট এমিলি ঝেং-এর মতে, মাস্ক তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও খরচ সমন্বয় করছেন যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় কোনো প্রজেক্ট উপস্থাপন করা সহজ হয়। বিশেষ করে অবকাঠামো ও জ্বালানি খরচের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে স্পেসএক্সের এখন বিশাল অংকের নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সম্প্রতি মাস্ক ‘টেরাফ্যাব’ নামক একটি বিশাল চিপ নির্মাণ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন যেখানে স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্সএআই যৌথভাবে কাজ করবে। টেসলা ইতিমধ্যেই এক্সএআই-তে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে তাদের তৈরি রোবটগুলোতে গ্রোক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০০২ সালে যখন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তার প্রধান লক্ষ্য ছিল বারবার ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ কমানো। আজ স্টারলিংকের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্নও দেখছেন মাস্ক। স্পেসএক্সের এই নতুন যাত্রায় ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

আপনার মতামত লিখুন :