বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

ইরান-মার্কিন সংকট: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কি ভারতকে ছাড়িয়ে?

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ইরান-মার্কিন সংকট: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কি ভারতকে ছাড়িয়ে?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা দিল্লির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, আঞ্চলিক কূটনীতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান কি ভারতকে কার্যত সাইডলাইনে পাঠিয়ে দিচ্ছে? গত সপ্তাহে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

যদিও তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তবুও পাকিস্তানের এই চটজলদি কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সাথে ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা শীতল পর্যায়ে রয়েছে, যা ইসলামাবাদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই ‍‍`নীরবতা‍‍` এবং কূটনৈতিক নিস্পৃহতাকে বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছে।

কংগ্রেস পার্টি একে ভারতীয় কূটনীতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের স্বনামধন্য কৌশলগত বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেলানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে, বর্ণনার যুদ্ধে পাকিস্তান অনেক ক্ষেত্রেই ভারতকে কূটনৈতিকভাবে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে ভারত সরকারের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক সর্বদলীয় বৈঠকে পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে দালালি বা ব্রোকারেজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি পরিষ্কার করেছেন যে ভারত আগ বাড়িয়ে কোথাও মধ্যস্থতা করতে যাবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিল্লির এই অস্বস্তি আসলে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক উদ্বেগ থেকে তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সামরিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক ভারতকে এই নির্দিষ্ট সংকটে কিছুটা পিছিয়ে রেখেছে। আবার অনেকের মতে, পাকিস্তান এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ভয়েই মরিয়া হয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, কারণ যুদ্ধ শুরু হলে তাদের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আসবে।

ভারতের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সরাসরি মধ্যস্থতায় না গিয়েও কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নিজের কণ্ঠস্বর বজায় রাখা। দিল্লির উচিত কেবল শিরোনাম হওয়ার পেছনে না ছুটে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করা এবং কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানো। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও ভারতের এই দ্বৈরথ কেবল শিরোনাম দখলের লড়াই নাকি প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, তা সময়ই বলে দেবে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!