বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ এর সফল উৎক্ষেপণ

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ এর সফল উৎক্ষেপণ

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস-২ এর সফল উৎক্ষেপণ।

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে গত ১ এপ্রিল বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশন। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দিকে যাত্রা করল। 

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩২ তলা উচ্চতার এই বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটটি হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে স্থানীয় সময় সকালে গর্জন তুলে আকাশে ডানা মেলে। এই মিশনের মাধ্যমে নাসা কেবল চাঁদে মানুষ ফেরানোর পথ প্রশস্ত করছে না, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকেও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আর্টেমিস-২ মিশনে চারজন দক্ষ নভোচারী রয়েছেন, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। আল জাজিরার তথ্যমতে, উৎক্ষেপণের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ক্যাপসুল থেকে কমান্ডার ওয়াইজম্যান চাঁদের উদয় দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই অভিযানে নভোচারীরা প্রায় ১০ দিনের এক সফরে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর আর কোনো মানুষ এতোটা গভীরে মহাকাশ ভ্রমণ করেনি। নাসা এই মিশনটিকে ‘নতুন প্রজন্মের অ্যাপোলো’ হিসেবে অভিহিত করেছে।তবে এই সফল উড্ডয়নের আগে কয়েক ঘণ্টা বেশ টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর আগের পরীক্ষায় তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি লোড করার সময় লিকেজ ধরা পড়ায় নাসা সতর্ক ছিল। তবে বুধবার কোনো বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা ছাড়াই ৭ লাখ গ্যালনের বেশি জ্বালানি রকেটে ভরা সম্ভব হয়।

যদিও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট টার্মিনেশন সিস্টেম এবং ওরিয়ন ক্যাপসুলের ব্যাটারির তাপমাত্রা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে প্রকৌশলীরা দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করেন। নাসার উৎক্ষেপণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে বলেন যে তারা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন ও সাহস সাথে নিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছেন।

যাত্রার পরবর্তী এক থেকে দুই দিন নভোচারীরা পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ মাধ্যমগুলো পরীক্ষা করবেন। এরপর একটি বিশেষ ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা হবে। সব ঠিক থাকলে নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন। পৃথিবী অভিমুখে ফেরার সময় ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এই মিশনের সাফল্যই নির্ধারণ করবে ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ মিশনে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবে কি না।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!