বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

হৃদয় পবিত্র রাখার গুরুত্ব: রিয়া ও হিংসা থেকে মুক্তির উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
হৃদয় পবিত্র রাখার গুরুত্ব: রিয়া ও হিংসা থেকে মুক্তির উপায়

হাদিসের ভবিষ্যৎবাণী/ছবি Ai

মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো তার অন্তর বা ক্বালব। আধ্যাত্মিক জগতের তাত্ত্বিক আলোচনায় এই অন্তরকে অনেক সময় স্রষ্টার ঘর হিসেবে অভিহিত করা হয়। বর্তমান ২০২৬ সালের এই অস্থির সময়ে যেখানে মানুষের মনোযোগ বাইরের চাকচিক্যের দিকে বেশি, সেখানে নিজের ভেতরের জগতকে পবিত্র রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি দর্শনে ‘ক্বালবুন সালীম’ বা একটি নিরাপদ ও নিষ্কলুষ হৃদয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শু’আরায় আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কিয়ামতের কঠিন দিনে ধন-সম্পদ কিংবা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর দরবারে একটি পবিত্র হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হতে পারবে। এই পবিত্রতা কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয় বরং এটি হলো আত্মিক কলুষতা থেকে মুক্তির এক নিরন্তর সংগ্রাম।

একটি হৃদয় যখন হিংসা, লোভ, রিয়া বা লোক-দেখানো ইবাদত এবং গাফিলতির অন্ধকারে ঢেকে যায়, তখন সেটি তার আসল সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। এই অপবিত্রতা দূর করার প্রধান উপায় হলো আল্লাহর অন্যতম গুণবাচক নাম ‘আল-ক্বুদদূস’ বা মহাপবিত্র সত্তাকে গভীরভাবে অনুধাবন করা। আল্লাহ যেমন সব ধরণের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত, তেমনি তাঁর স্মরণের মাধ্যমে একজন মুমিনও তার অন্তরকে দুনিয়াবি মোহ ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করার প্রয়াস চালায়। আসলে জিকির হলো হৃদয়ের সেই ঐশী খাদ্য যা আত্মাকে উদাসীনতার ধোঁয়া থেকে রক্ষা করে। যখন কোনো বান্দা দায়িমি জিকির বা সার্বক্ষণিক স্মরণের অভ্যেস গড়ে তোলে, তখন তার হৃদয়ের স্পন্দনে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভূত হয়। এটিই হলো ক্বালবুন সালীম অর্জনের প্রাথমিক ধাপ।

হৃদয়ের পবিত্রতা বজায় রাখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রিয়া। এটি এমন এক সূক্ষ্ম ব্যাধি যা ইবাদতের নেকিকে ধ্বংস করে দেয়। রিয়া মূলত নিজের ইবাদতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অংশীদার করা বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা। এর একমাত্র মহৌষধ হলো ইখলাস বা বিশুদ্ধ আন্তরিকতা। যখন কোনো মুমিন তার সিজদা বা দান কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই উৎসর্গ করে, তখন তার সেই ছোট আমলটিও আরশের মালিকের কাছে অমূল্য হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি হিংসা ও অহংকার বর্জন করা একান্ত জরুরি। হিংসা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে ফেলে এবং নেক আমলগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আল্লাহর ফয়সালাকে সানন্দে মেনে নেওয়া এবং অন্যের নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা শিখতে হয়।

ভুল ও গুনাহ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলেও তাওবাহ বা অনুশোচনা হলো অন্তর ধোয়ার সেরা মাধ্যম। আল্লাহর কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হওয়া এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্ষমা চাওয়া হৃদয়কে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। এই তাজদীদ বা আত্মিক নবায়ন প্রতিদিনের ইবাদতকে সজীব রাখে। এর চূড়ান্ত ফল হিসেবে মুমিন লাভ করে ‘সাকীনাহ’ বা ঐশী প্রশান্তি। যে হৃদয়ে কোনো লোভ বা ভয় থাকে না, সেখানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা স্থায়ী রূপ নেয়। এটি কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতি নয় বরং এটি একজন মানুষকে জীবনের শেষ মূহুর্তে বা হুসনুল খাতিমাহ অর্জনে সহায়তা করে। যে ব্যক্তি সারা জীবন নিজের অন্তরের ঘরকে আল্লাহর স্মরণের জন্য পবিত্র রেখেছে, তার মৃত্যুও হবে এক প্রশান্ত ও তৃপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

মোটিভেশন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!