বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

বনী ইসরাইলের ইতিহাস ও ইউশা বিন নূন (আ.)-এর অলৌকিক বিজয়

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
বনী ইসরাইলের ইতিহাস ও ইউশা বিন নূন (আ.)-এর অলৌকিক বিজয়

ইউশা বিন নূন (আ.) ও আসমানি সাহায্যের ঐতিহাসিক উপাখ্যান | ছবি Ai

ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তির পর বনী ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো পবিত্র ভূমি বা জেরুজালেম বিজয়। মুসা (আ.)-এর জীবদ্দশায় বনী ইসরাইল তাদের ভীরুতা ও অবাধ্যতার কারণে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে অস্বীকার করায় আল্লাহ তাদের জন্য ৪০ বছর মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানো বা ‍‍`তীহ্‍‍` প্রান্তরের শাস্তি নির্ধারণ করেন (সূরা আল-মায়িদা, ৫:২৬)।

এই দীর্ঘ সময়ে অবাধ্য প্রজন্মের অবসান ঘটে এবং মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-এর ইন্তেকালের পর হযরত ইউশা বিন নূন (আ.)-এর নেতৃত্বে এক নতুন ঈমানদার প্রজন্ম তৈরি হয়। ইউশা বিন নূন (আ.) ছিলেন সেই তরুণদের একজন, যিনি বনী ইসরাইলকে আমালেকাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সাহস জুগিয়েছিলেন।

জেরুজালেম বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনটি ছিল শুক্রবার। আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যখন সূর্য প্রায় অস্তগামী, তখন ইউশা বিন নূন (আ.) চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কারণ শনিবার বা ‍‍`সাবাত‍‍` শুরু হয়ে গেলে ইহুদি শরীয়ত অনুযায়ী যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল। বিজয়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি আল্লাহর কাছে সূর্যকে থামিয়ে দেওয়ার দোয়া করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সূর্যকে কোনো মানুষের জন্য থামানো হয়নি একমাত্র ইউশা বিন নূনের জন্য ব্যতিরেকে, যখন তিনি বাইতুল মাকদিস অভিমুখে যাচ্ছিলেন (সহীহ আল-বুখারী, ৩১২৪)।

মহান আল্লাহ তাঁর নবীর ডাকে সাড়া দিয়ে সূর্যের গতি স্তব্ধ করে দেন এবং বিজয় সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তা দিগন্তেই স্থির থাকে।এই অলৌকিক ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজয় সংখ্যার আধিক্যে বা অস্ত্রের ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বদরের যুদ্ধে ৩১৩ জনের বিজয় কিংবা দাউদ (আ.)-এর হাতে জালুত বধ—সবই এই আসমানি সাহায্যের ফসল।

বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, প্রযুক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা নয় বরং সালাত ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা। যখনই মুসলমানরা নিজেদের ক্ষমতার দম্ভ ত্যাগ করে নিঃশর্তভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, তখনই আসমানি সাহায্য তাদের বিজয় নিশ্চিত করেছে। আজ ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে মজলুমদের মুক্তির পথও নিহিত রয়েছে সেই ঈমানী দৃঢ়তা ও ইখলাসের মাঝে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

মোটিভেশন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!