বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

মোটিভেশন

প্রজন্ম ব্যবধান: বাবা-মায়ের সাথে দূরত্বের ইসলামিক সমাধান

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
প্রজন্ম ব্যবধান: বাবা-মায়ের সাথে দূরত্বের ইসলামিক সমাধান

জন্মের দূরত্ব ঘুচুক শ্রদ্ধার আলোয়/ছবি Ai

বর্তমান ২০২৬ সালের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক তরুণই একটি গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন যা হলো বাবা-মায়ের সাথে ক্রমবর্ধমান মানসিক দূরত্ব। আপনি হয়তো আপনার ক্যারিয়ার বা জীবনদর্শন নিয়ে একটি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন যা আপনার বাবা-মায়ের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন বা সেকেলে মনে হতে পারে। এই যে একটি নীরব সংঘাত বা প্রজন্মের ব্যবধান এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয় বরং এটি বর্তমান সামাজিক কাঠামোর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি হয়তো আপনার স্বপ্নগুলো তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছেন আর তারা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনাকে বিচার করতে গিয়ে সম্পর্কের মাঝে এক ধরণের দেয়াল তুলে দিচ্ছেন। অনেক সময় এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় যা একজন মুমিন হিসেবে আপনার জন্য এক বড় পরীক্ষার নাম।

পিতা-মাতার সাথে এই ধরণের মানসিক দ্বন্দ্বের মুহূর্তে ইসলাম আমাদের এক অদ্ভুত ধৈর্য ও শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইসরায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের ঠিক পরেই পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার বা ইহসান করার আদেশ দিয়েছেন। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো আল্লাহ এটি বলেননি যে কেবল তারা আপনাকে বুঝলে বা আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করলেই আপনি তাদের শ্রদ্ধা করবেন। বরং আল্লাহ শর্তহীনভাবে তাদের প্রতি দয়াশীল হতে বলেছেন এবং বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদের প্রতি উফ শব্দটিও উচ্চারণ করতে নিষেধ করেছেন। জেনারেশন গ্যাপের কারণে তৈরি হওয়া বিরক্তি যদি আপনার আচরণে প্রকাশ পায় তবে সেটিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসতে পারে যা আপনার আমলনামায় বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেকেই ভাবেন যে যদি বাবা-মা কোনো ভুল সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তবে কী হবে। ইসলাম অনুযায়ী যদি তারা আপনাকে দ্বীনের কোনো মৌলিক বিষয়ের বিরুদ্ধে বা শিরক করতে বাধ্য না করেন তবে পার্থিব সব বিষয়ে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখা ফরজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একবার এক ব্যক্তি এসে তার মার সাথে সুন্দর আচরণের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তিনবার মার কথা উল্লেখ করেছিলেন যা সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে। এই প্রাধান্য মূলত এটাই প্রমাণ করে যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আপনার কাছে প্রাচীন মনে হলেও আপনার অস্তিত্বের ঋণ তাদের কাছে অপরিসীম। তাদের সাথে তর্কে না জড়িয়ে নরম ও সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা এবং তাদের জন্য দোয়া করাই হলো একজন প্রকৃত সচেতন মুসলিমের পরিচয়।

আসলে বাবা-মায়ের সাথে এই দূরত্ব ঘোচানোর একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হলো বিনয় ও দোয়া। শৈশবে আপনি যখন অবুঝ ছিলেন তখন তারা আপনার প্রতি যে ধৈর্য দেখিয়েছিলেন আজ আপনার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সেই একই ধৈর্য দেখানোর সময় আপনার এসেছে। সূরা আল-ইসরায় বর্ণিত সেই বিশেষ দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা উচিত যেখানে আমরা আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সেই দয়া ও রহমত ভিক্ষা করি যা তারা আমাদের শৈশবে দেখিয়েছিলেন। এই মানসিকতা যখন আপনার মধ্যে তৈরি হবে তখন তাদের শাসন বা না-বোঝার বিষয়টিকে আপনি ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে না দেখে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবেন। ধৈর্য ও সেবার এই পথটিই হয়তো আপনার জান্নাতে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সহজতম উপায় হতে পারে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

পরিবার বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!