বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

মোটিভেশন

খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনী ও ইমাম মাহদী: সত্য উন্মোচন

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনী ও ইমাম মাহদী: সত্য উন্মোচন

হাদীসের আলোকে খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনীর পরিচয়| ছবি Ai

বর্তমান বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর ওপর যে নির্মম নিপীড়ন ও অমানিশা চলছে, তা অনেক মুমিনকে আখেরি জামানার প্রতিশ্রুত মুক্তিদাতা ইমাম মাহদীর আগমনের প্রতীক্ষায় উদ্বেলিত করে তোলে। বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রের ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত ‍‍`খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনী‍‍` নিয়ে উম্মাহর একটি বড় অংশের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আবেগ কাজ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, খোরাসানের দিক থেকে একদল কালো পতাকাবাহী সৈন্য আসবে, যারা পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ইমাম মাহদীকে সাহায্য করবে (মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, ৮৫৭৩)।

ঐতিহাসিক ভৌগোলিক মানচিত্রে খোরাসান বলতে বর্তমান আফগানিস্তান, উত্তর-পূর্ব ইরান এবং তুর্কমেনিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বোঝানো হয়। হাদীস অনুযায়ী, এই বাহিনী হবে ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান এবং তারা যাবতীয় তাগুত শক্তির বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত তাগিদ দিয়ে বলেছেন, যখন তোমরা দেখবে পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে, তখন বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের সাথে যোগ দাও, কারণ তাদের মধ্যেই থাকবেন আল্লাহর খলিফা ইমাম মাহদী (সুনান ইবনে মাজাহ, ৪০৮৪)। তবে এই স্পর্শকাতর হাদীসগুলোকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে অনেক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও চরমপন্থী দল সাধারণ মুসলমানদের আবেগ নিয়ে খেলার অপচেষ্টা করেছে।

অনেক দল নিজেদেরকে এই প্রতিশ্রুত বাহিনী হিসেবে দাবি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সচেতন মুমিন হিসেবে মনে রাখতে হবে, যতক্ষণ না প্রতিশ্রুত ব্যক্তি স্বয়ং কাবা শরীফের সামনে উপস্থিত হয়ে বাইয়াত নিচ্ছেন এবং অন্যান্য অকাট্য আলামতগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে, ততক্ষণ কাউকে চূড়ান্তভাবে মাহদীর বাহিনী আখ্যা দেওয়া শরীয়ত পরিপন্থী।

এই বাহিনীর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হবে তাদের শিরক ও বিদআতমুক্ত সহীহ আকিদা এবং দুনিয়াবী পঙ্কিলতামুক্ত পবিত্র অন্তর। তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেবাস নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক ঈমানি প্রতীক। এই কাফেলার অংশ হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং আত্মিক পরিশুদ্ধি বা তাযকিয়াতুন নাফস। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, সফল সেই ব্যক্তি যে নিজের আত্মাকে পাপাচার থেকে পরিশুদ্ধ করেছে (সূরা আশ-শামস, ৯১:৯)।

তাই ইমাম মাহদীর আগমনের প্রতীক্ষা কেবল নিষ্ক্রিয় বসে থাকা নয়, বরং নিজের জীবনকে কোরআন-সুন্নাহর ছাঁচে গড়ে তোলা এবং সকল প্রকার লৌকিকতা ও রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে সত্যের পক্ষে অবিচল থাকাই হলো এই জামানার প্রকৃত প্রস্তুতি।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!