যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ এপ্রিল রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন যে, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো সফল হওয়ার পথে রয়েছে। বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা গ্যারি ও ডোনো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ২০ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সংঘাত আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অভিযানের পর এটিই ছিল প্রেসিডেন্টের বড় কোনো নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভাষণে নতুন কোনো তথ্য বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট পথরেখা ছিল না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধকে আমেরিকানদের ভবিষ্যতের জন্য একটি `বিনিয়োগ` হিসেবে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন। যদিও রয়টার্স এবং বিবিসির সংগৃহীত বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ ভোটার এই সামরিক অভিযানে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন না। ভাষণে ট্রাম্প পুরনো হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন যে, ইরানকে প্রয়োজনে `বোমা মেরে পাথর যুগে` ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে গত এক মাসে ট্রুথ সোশ্যালে তার দেওয়া পোস্টগুলোর সাথে এই ভাষণের সারমর্মের খুব একটা পার্থক্য পাননি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্পের ভাষণে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল এর সমাপ্তি বা `এক্সিট স্ট্র্যাটেজি` নিয়ে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য না থাকা। মার্কিন নাগরিকদের জন্য এই যুদ্ধ কেন দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন, তা বোঝাতে ট্রাম্প আগের শতাব্দীর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোর সাথে এর তুলনা করেন। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টায় ট্রাম্প একে একটি ক্ষুদ্র ও কৌশলগত অভিযান হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করলেও যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জনমনে সংশয় এখনো প্রবল।

আপনার মতামত লিখুন :