বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

মোটিভেশন

মৃত্যুর পর প্রথম এক ঘণ্টা: রূহের অজানা সফর ও শেষ গন্তব্য

উম্মাহ কণ্ঠ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
মৃত্যুর পর প্রথম এক ঘণ্টা: রূহের অজানা সফর ও শেষ গন্তব্য

রূহের অজানা সফরের শুরু/ছবি Ai

মানুষের জীবনের চূড়ান্ত নীরবতা নেমে আসে যখন তার শরীরের শেষ কম্পনটি থেমে যায়। চারপাশের প্রিয়জনদের কান্না আর আকুল আর্তনাদ তখন পার্থিব জগতের শেষ বিদায় ঘণ্টা বাজায় কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই শুরু হয় এক নতুন এবং অদৃশ্য জগতের যাত্রা। মৃত্যুর পর প্রথম এক ঘণ্টা প্রতিটি মানুষের জন্য এমন এক অভিজ্ঞতা যা কেবল কুরআন এবং হাদিসের আলোকেই অনুধাবন করা সম্ভব। যখন জীবনের শেষ নিঃশ্বাস গলার কাছে এসে গুরগুর শব্দ করে তখন মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা মানুষের সামনে হাজির হন। সূরা আস-সাজদাহর ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে মানুষের ওপর নিয়োগ করা হয়েছে সে-ই রূহ কবজ করে এবং এরপর সবাই তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। এই অন্তিম মুহূর্তে মুমিন বান্দা তার জান্নাতের স্থানটি দেখতে পায় আর পাপিষ্ঠরা তাদের জন্য নির্ধারিত যন্ত্রণার আভাস পায়। এই দর্শনই মুমিনের জন্য চূড়ান্ত আনন্দ আর অবিশ্বাসীদের জন্য চরম ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রূহ বা আত্মা শরীর থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে ব্যক্তির ইহকালীন আমলের ওপর। আল-বারা‍‍` ইবনে আযিব বর্ণিত দীর্ঘ হাদিস অনুযায়ী মুমিনের পবিত্র রূহ শরীর থেকে অত্যন্ত সহজে বেরিয়ে আসে ঠিক যেভাবে পানপাত্র থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে। রহমতের ফেরেশতারা তখন সেই রূহকে রেশমী কাপড়ে মুড়িয়ে আসমানের দিকে নিয়ে যান। প্রতিটি আসমানের ফেরেশতারা সেই পবিত্র আত্মার সুগন্ধে মুগ্ধ হয়ে তার পরিচয় জানতে চান। এরপর আল্লাহর আদেশে সেই পুণ্যবানের আমলনামা ইল্লিয়্যিন বা সর্বোচ্চ স্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিপরীতক্রমে পাপিষ্ঠ বা কাফিরদের রূহ শরীর থেকে বের করার সময় মালাকুল মউত অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন। এই রূহ থেকে এক ধরণের দুর্গন্ধ বের হয় এবং আসমানের দরজাগুলো তাদের জন্য চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আল্লাহর হুকুমে তাদের আমলনামা সিজ্জিন বা সর্বনিম্ন স্থানে নিক্ষিপ্ত করা হয় যা অত্যন্ত ভয়াবহ এক পরিণতি।

মৃত্যুর এই প্রাথমিক পর্ব শেষ হওয়ার পর রূহ পুনরায় তার দেহের কাছে ফিরে আসে এবং দাফনের প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রূহ তখন তার দেহ বহনকারী মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়। পবিত্র রূহ তখন আকুল হয়ে বলতে থাকে যে তাকে যেন দ্রুত তার গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু অপবিত্র রূহ যন্ত্রণায় চিৎকার করে বলতে থাকে যে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কবরে রাখার পর প্রতিটি মানুষকে মাটির সেই প্রচণ্ড চাপের সম্মুখীন হতে হয় যা আমলভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এরপরই শুরু হয় কবরের প্রথম ও প্রধান পরীক্ষা যেখানে মুনকার ও নাকীর নামক দুজন ফেরেশতা এসে তিনটি প্রশ্ন করেন। আপনার রব কে আপনার দ্বীন কী এবং আপনার নবীর পরিচয় কী—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা কেবল পার্থিব জীবনের আমল ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।

২০২৬ সালের এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবা উচিত যে মৃত্যুর সেই প্রথম এক ঘণ্টা আমাদের জন্য কেমন হতে পারে। তওবা এবং ইখলাসের মাধ্যমে জীবনকে সাজানোই হলো সেই মুহূর্তকে সহজ করার একমাত্র পথ। হুসনুল খাতিমাহ বা উত্তম মৃত্যুর জন্য নিয়মিত দোয়া করা এবং আমলের ওপর অটল থাকা প্রতিটি সচেতন মুসলিমের কর্তব্য। মৃত্যু কোনো বিনাশ নয় বরং এটি বারযাখ বা অন্তর্বর্তীকালীন জগতের প্রথম পদক্ষেপ। আজকের তওবা এবং আমলই নির্ধারণ করবে সেই প্রথম এক ঘণ্টা জান্নাতের নূরে আলোকিত হবে নাকি অন্ধকারের আবর্তে হারিয়ে যাবে। আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা আর তাঁর শাস্তির ভয় এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই একজন মুমিনের পথ চলা উচিত যাতে তার রূহ রহমতের ফেরেশতাদের হাতে সঁপে দেওয়া সম্ভব হয়।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

মোটিভেশন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!