মানুষের চিরন্তন অনুসন্ধান হলো সুখ, কিন্তু এই সুখের সংজ্ঞা ও প্রাপ্তিস্থান নিয়ে আমাদের ধারণায় বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন একটি ভালো চাকরি, কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী কিংবা অঢেল সম্পদই জীবনের সব শূন্যতা পূরণ করে দেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পার্থিব বস্তু অর্জনের পর সেই আনন্দ খুব দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এই অবস্থাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, দুনিয়ার জীবন মূলত এক ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয় (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫)। এই `মাতাউল গুরূর` বা ধোঁকার সামগ্রী আমাদের সাময়িক তৃপ্তি দিলেও হৃদয়ের গভীরে যে চিরস্থায়ী প্রশান্তি বা `সাকীনাহ` প্রয়োজন, তা দিতে ব্যর্থ হয়।
প্রকৃত সুখ কোনো জাগতিক বস্তুর ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে অন্তরের অবস্থার ওপর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একটি হাদিস আমাদের এই সত্যটি মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের আকাঙ্ক্ষার কোনো শেষ নেই। তিনি জানিয়েছেন, আদম সন্তানকে যদি স্বর্ণের দুটি উপত্যকাও দেওয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করবে (সহীহ আল-বুখারী, ৬৪২৩)। এই অতৃপ্তিই প্রমাণ করে যে, বস্তুবাদী জীবন মানুষের আত্মার তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
আত্মার প্রকৃত শান্তি বা `সুকুন` নিহিত রয়েছে স্রষ্টার স্মরণে। কোরআনের অমোঘ ঘোষণা অনুযায়ী, কেবল আল্লাহর জিকির বা স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় (সূরা আর-রা`দ, ১৩:২৮)।ইসলামি জীবনদর্শনে সুখ অর্জনের প্রধান দুটি স্তম্ভ হলো শুকর বা কৃতজ্ঞতা এবং সবর বা ধৈর্য। যখন কোনো ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট থাকতে শেখে এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে, তখনই তার জীবনে প্রকৃত প্রাচুর্য আসে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই ব্যক্তিই সফল যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে সে সন্তুষ্ট (সহীহ মুসলিম, ১০৫৪)। সুতরাং, হৃদয়ের শূন্যতা দূর করতে হলে আমাদের যান্ত্রিক জীবনের মোহ ত্যাগ করে আধ্যাত্মিকতার পথে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা এবং নিয়মিত দোয়ার মাধ্যমেই কেবল সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি অর্জন সম্ভব যা দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি নিশ্চিত করে।

আপনার মতামত লিখুন :