যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় আর্টেমিস-২ মিশনের মহাকাশযান ওরিয়ন চারজন নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে বলে বিবিসি এবং নাসা নিশ্চিত করেছে।
প্রায় ৫০ বছর পর এটিই প্রথম মানববাহী লুনার ফ্লাইবাই মিশন যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে পাড়ি দেবে। ১০ দিনের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডীয় মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। অভিযানটি মূলত চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে মহাকাশযানের জীবন-সহায়ক ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
মহাকাশযানের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরের জীবন বেশ চ্যালেঞ্জিং। ওরিয়ন মহাকাশযানটি অ্যাপোলো ক্যাপসুলের চেয়ে আকারে বড় হলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের তুলনায় এর ভেতরকার জায়গা অত্যন্ত সীমিত। এখানে শাওয়ার বা কাপড় ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে নভোচারীদের বেবি ওয়াইপস এবং বিশেষ ধরনের নো-রিঞ্জ শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
ওরিয়ন মহাকাশযানে একটি ছোট কিচেনেট এবং একটি বিশেষ টয়লেট সিস্টেম রয়েছে যা মিশনের প্রথম দিনেই নভোচারীদের নিজেদের সেটআপ করে নিতে হয়। ঘুমানোর জন্য আলাদা কোনো কেবিন নেই, বরং নভোচারীরা ওজনহীন অবস্থায় স্লিপিং ব্যাগের সাহায্যে ক্যাপসুলের ভেতরেই বিশ্রামের কাজ সারেন।
সৌর বিকিরণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য ওরিয়ন ক্যাপসুলের মেঝেতে একটি বিশেষ রেডিয়েশন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। মহাকাশে থাকাকালীন সূর্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মির প্রকোপ বাড়লে নভোচারীরা এই সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেবেন।
এই ১০ দিনের সফরে তারা ওরিয়নের ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিং বা হাতে কলমে মহাকাশযান চালানোর দক্ষতাও পরীক্ষা করবেন যা ভবিষ্যতের আর্টেমিস-৩ মিশনে চাঁদে মানুষের অবতরণ সহজতর করবে। নাসার তথ্যমতে, উড্ডয়নের শুরুতে গ্রাউন্ড ক্রুদের সাথে যোগাযোগে কিছুটা যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলেও বর্তমানে মহাকাশচারীরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা বেশ ইতিবাচক।

আপনার মতামত লিখুন :