মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ইখলাস ও বারাকাহ্: আপনার কর্ম কি আল্লাহর জন্য?

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:৪১ এএম
ইখলাস ও বারাকাহ্: আপনার কর্ম কি আল্লাহর জন্য?

সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির পথে কর্মময় হাত | ছবি - উম্মাহ কণ্ঠ

মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মহান আল্লাহ তাআলার এক নিপুণ সৃষ্টি এবং পবিত্র আমানত। সৃষ্টির দর্শনে আল-খা-লিক বা সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহ আমাদের যে দেহসৌষ্ঠব দান করেছেন তার প্রতিটি অংশই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নির্ধারিত। বিশেষ করে আমাদের হাত যা জীবনের অধিকাংশ দৃশ্যমান কর্ম সম্পাদন করে তা কেবল দুনিয়াবী স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম নয় বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ইসলাম আমাদের শেখায় যে এই হাত যখন আল-খা-লিকের হুকুমে তাঁরই প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয় তখনই তা সৃষ্টির প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পায়। আল-মুছাওয়ির বা রূপদানকারী হিসেবে আল্লাহ আমাদের যে সুন্দর অবয়ব দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় কেবল মুখে নয় বরং কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করাই হলো মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য।

জীবনের প্রতিটি কাজে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো ইবাদত কবুলের মূল শর্ত। অনেক সময় আমাদের হাত নশ্বর দুনিয়ার তুচ্ছ লোভ বা মানুষের প্রশংসার মোহে ভুল পথে পরিচালিত হয়। রিয়া বা লোক দেখানোর মানসিকতা আমাদের আমলকে ধ্বংস করে দেয়। অথচ আল্লাহ কেবল সেই কাজগুলোই গ্রহণ করেন যা কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয়। কাজ যত ক্ষুদ্রই হোক যদি তাতে ইখলাস থাকে তবে আল-আজীম বা মহীয়ান রবের কাছে তার মূল্য অপরিসীম। নিজের হাতকে অহংকার ও প্রদর্শন ইচ্ছা থেকে মুক্ত রেখে বিনয়ের সাথে নেক কাজে নিয়োজিত রাখাই হলো সিরাতে মুস্তাকীমে অবিচল থাকার অন্যতম উপায়। যখন একজন বান্দা উপলব্ধি করে যে তার হাতের শক্তি ও সামর্থ্য একান্তই আল্লাহর দান তখন তার হৃদয়ে প্রশান্তি বা সাকীনাহ নেমে আসে।

পবিত্র আমল হিসেবে গুপ্ত সদকা এবং অন্যের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেওয়া ঈমানের এক অনন্য উচ্চতা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন যার ডান হাত এমনভাবে দান করে যে তার বাম হাতও তা টের পায় না। এই গোপন ইবাদতগুলো অন্তরের কলুষতা দূর করে এবং আখেরাতের পাথেয় হিসেবে সঞ্চিত হয়। পাশাপাশি নিজের হাতকে জিকির ও তাসবীহ গণনায় ব্যস্ত রাখা অলসতা থেকে বাঁচার এক কার্যকর উপায়। এর বাইরেও ইলম বা জ্ঞান অর্জনে কলম ধরা এবং হালাল রিজিক অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করাও বড় ইবাদত। কারণ হালাল উপার্জন কেবল দোয়া কবুলের মাধ্যমই নয় বরং এটি একজন মুমিনের জীবনকে বরকতময় করে তোলে। মানুষের উপকার করা এবং অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এই হাত আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।

পরকালীন জীবনে মানুষের এই হাতই তার কৃতকর্মের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ এর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন যে কিয়ামতের দিন তিনি মানুষের মুখে মোহর মেরে দেবেন এবং তাদের হাত তাঁর সাথে কথা বলবে (সূরা ইয়াসীন, ৩৬:৬৫)। সেদিন মানুষের প্রতিটি আঙুল সাক্ষ্য দেবে তারা কি অন্যায়ের দিকে অগ্রসর হয়েছিল নাকি আল্লাহর স্মরণে মগ্ন ছিল। যারা দুনিয়ায় তাদের কর্মকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছে তারা সেদিন নিরাপদ থাকবে। অবিচল ইবাদত এবং ইখলাসের এই অভ্যাসই মূলত একজন মানুষের শেষ মুহূর্ত বা হুসনুল খাতিমাহ নিশ্চিত করে। জীবনের শেষ আমলটি যেন রবের সন্তুষ্টির ওপর হয় এবং এই হাত যেন ইবাদত করতে করতে বিশ্রামে যেতে পারে এটাই মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত সফলতা।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

মোটিভেশন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!