মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হাউজে কাউসার পানের সৌভাগ্য অর্জনের সঠিক পথ ও আমল

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:০৬ এএম
হাউজে কাউসার পানের সৌভাগ্য অর্জনের সঠিক পথ ও আমল

অনন্ত তৃষ্ণার প্রশান্তি | ছবি - উম্মাহ কণ্ঠ

কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিন যখন সূর্য মাথার অতি নিকটে থাকবে এবং মানুষের তৃষ্ণা হবে অসহনীয় তখন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশা হবে হাউজে কাউসার। এটি কেবল একটি জলাধার নয় বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় উম্মতদের জন্য এক বিশেষ উপহার। দুনিয়ার অস্থির জীবনে আমরা অনেক সময় সাময়িক সুখের পেছনে ছুটি কিন্তু কিয়ামতের সেই দীর্ঘস্থায়ী পিপাসা মেটানোর জন্য হাউজে কাউসারের পানির কোনো বিকল্প নেই। এই পানি এতটাই বরকতময় যে একবার পান করলে মানুষ আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এই মহানিয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন যে আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি (সূরা আল-কাওসার, ১০৮:১)। এটি মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত প্রাপ্তি যা তাকে কঠিন বিপদের দিনে নিরাপত্তা দান করবে।

আল-ওয়াহহাব বা পরম দাতা হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই নিয়ামতটি কেবল তাঁর প্রিয় রাসূলের (সাঃ) অনুসারীদের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন। কিয়ামতের ময়দানে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজেই তাঁর উম্মতদের এই পানি পান করাবেন যা হবে এক পরম আতিথেয়তা। আর-রাহমান বা পরম করুণাময় রবের রহমত ছাড়া এই মহান সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের আমল হয়তো ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে কিন্তু আল্লাহর অপার করুণা এবং রাসূলের (সাঃ) শাফায়াত বা সুপারিশই হবে আমাদের নাজাতের উসিলা। সহীহ বর্ণনায় এসেছে যে হাউজে কাউসারের পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে এবং সেখানে রাখা পাত্রগুলো হবে আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো অসংখ্য (সহীহ আল-বুখারী, ৬৫৭৯)। এই বিশাল আয়োজন কেবল সেইসব বান্দাদের জন্য যারা পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুম এবং রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে ছিল।

হাউজে কাউসারের সৌভাগ্য লাভের জন্য কেবল মুখে দাবি করা যথেষ্ট নয় বরং অন্তরে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা থাকা জরুরি। যারা দুনিয়ায় নফসের গোলামি ছেড়ে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অনুসরণ করে তারাই সেদিন সেই শীতল পানির স্বাদ পাবে। ক্বালবুন সালীম বা পবিত্র অন্তর না থাকলে সেই পরম তৃপ্তি অনুভব করা সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সতর্ক করেছেন যে কিছু লোককে হাউজে কাউসারের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে কারণ তারা দ্বীনের মধ্যে নতুন নতুন ভ্রান্ত বিষয় বা বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। তাই সুন্নাহর পথে অবিচল থাকাই হলো সেই হাউজের পানি পান করার মূল চাবিকাঠি। আমাদের জিহবা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকির এবং রাসূলের প্রতি দরুদে সিক্ত থাকে কারণ এটিই অন্তরের মরিচা দূর করে।

যিনি আল-মু’মিন বা নিরাপত্তা প্রদানকারী তিনি তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের সেদিন একাকী ছেড়ে দেবেন না। হাউজে কাউসার পান করার পর মুমিনের হৃদয়ে এমন এক সাকীনাহ বা ঐশী প্রশান্তি আসবে যা তাকে জান্নাতের দিকে আরামের সাথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে। কিয়ামতের ভয়াবহ অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেয়ে এই শীতল সুধা পান করা হবে জান্নাতে প্রবেশের প্রথম স্বাদ। আমাদের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব যখন আল্লাহর কাছে দিতে হবে তখন এই নেক আমলের সঞ্চয়ই আমাদের মান রক্ষা করবে। জীবনের শেষ আমলটি যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর হয় এবং পরকালে নবীর হাত থেকে পানি পান করার মাধ্যমে যেন জীবনের সার্থকতা আসে এটাই প্রত্যেক মুমিনের একান্ত প্রার্থনা হওয়া উচিত।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

মোটিভেশন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!