অ্যাপল তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের মাধ্যমে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী নতুন এই ডিভাইসে প্রথমবারের মতো ৪০ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারে থাকা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স যেখানে ৩৯ ঘণ্টার ব্যাকআপ দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সেখানে নতুন মডেলটি সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলার পথে রয়েছে। তবে অ্যাপল এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যাটারির আকার বাড়িয়ে অর্জন করছে না বরং হার্ডওয়্যারের অভ্যন্তরীণ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই অসাধ্য সাধন করতে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৫০০০ থেকে ৫২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। চীনের বাজারের জন্য ৫০০০ এবং আন্তর্জাতিক ভার্সনের জন্য ৫২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ওয়ানপ্লাস বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করছে তবুও অ্যাপল তাদের নিজস্ব ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে কম শক্তিতে বেশি সেবা দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। এই নতুন ব্যাটারি সংযোগের ফলে ফোনের ওজন কিছুটা বেড়ে প্রায় ২৪০ গ্রাম হতে পারে যা আইফোনের ইতিহাসে অন্যতম ভারী হ্যান্ডসেট হবে।

ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করবে অ্যাপলের আসন্ন এ২০ প্রো চিপসেট। টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি এই চিপ আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। একইসঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেম ব্যবহারের ফলে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ব্যাটারির খরচ অনেক কমে আসবে। লিক হওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে উন্নত কুলিং সিস্টেম বা ভেপার চেম্বার ব্যবহার করা হবে যা গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ভারী কাজের সময় ফোনকে ঠান্ডা রাখতে এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
ব্যবহারিক জীবনে ৪০ ঘণ্টার এই ব্যাকআপের অর্থ হলো একজন সাধারণ ব্যবহারকারী টানা দুই দিন ফোনটি চার্জ না দিয়েই ব্যবহার করতে পারবেন। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ বা ভ্রমণের সময় চার্জিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতেই অ্যাপল এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপের ওপর জোর দিচ্ছে। স্মার্টফোন বাজারে যেখানে চার্জিং স্পিড বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে সেখানে অ্যাপল স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এই ফোনটি উন্মোচনের কথা রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের দুনিয়ায় ব্যাটারি লাইফের নতুন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হতে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :