ইসলামী শরীয়াহর সামগ্রিক ইমারত এবং মুমিনের আধ্যাত্মিক জীবনের মূল ভিত্তি হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী বা প্রত্যাদেশ। ওহী হলো সেই স্বর্গীয় মাধ্যম যার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টির হেদায়েতের জন্য বিধানাবলী প্রেরণ করেন। সহীহ বুখারীর সংকলক ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইসমাইল বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে তাঁর মহান কিতাবটি ওহীর সূচনা অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন এবং তার প্রথম হাদীস হিসেবে নিয়ত বা সংকল্পের বিষয়টিকে স্থান দিয়েছেন। এটি মূলত আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন বা যেকোনো আমল কবুল হওয়ার জন্য মনের সংকল্প বা নিয়তকে সর্বপ্রথম বিশুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: ﴿إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইন্না আওহাইনা ইলাইকা কামা আওহাইনা ইলা নুহিঁও ওয়ান নাবিয়্যিনা মিম বা’দিহি।" অর্থ: "নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সেরূপ ওয়াহী প্রেরণ করেছি যেরূপ নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম।" (সূরা আন-নিসা, ৪:১৬৩)
শরীয়াহর মূল উৎস হিসেবে ওহী প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে যার একটি হলো ওহী মাতলু যা আমরা পবিত্র কুরআন হিসেবে তিলাওয়াত করি এবং অপরটি হলো ওহী গাইরে মাতলু যা মূলত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হাদীস। দ্বীনে ইলাহীর ভিত্তি এই দুই প্রধান স্তম্ভের ওপরই সুপ্রতিষ্ঠিত। উম্মাহর মধ্যে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় তারা অনেক সময় ইজমা এবং কিয়াসকে ওহীর সমতুল্য মনে করে কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো কিয়াস বা ইজমা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। যদি কোনো ব্যাখ্যা ওহীর বিপক্ষে যায় তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আদেশ করেছেন: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّসُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنাَزَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْমِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু আতিউল্লাহা ওয়া আতিউর রাসূলা ওয়া উলিল আমরি মিনকুম, ফাইং তানাজাতুম ফী শাইয়িন ফারুদ্দুহু ইলাল্লাহি ওয়ার রাসূলি ইং কুনতুম তু’মিনুনা বিল্লাহি ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি, জালিকা খাইরুও ওয়া আহসানূ তা’বীলান।" অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য হতে উলিল আমর বা কতৃপক্ষের। যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয় তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের ওপর বিশ্বাস রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।" (সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯)
এই আনুগত্যের পূর্ণতা আসে তখনই যখন মানুষের নিয়ত হয় একনিষ্ঠ। আমিরুল মুমিনীন হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে বর্ণিত প্রথম হাদীসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রতিটি কাজের প্রাপ্য নির্ধারিত হয় নিয়ত অনুযায়ী। কোনো ব্যক্তি যদি কেবল পার্থিব কোনো সম্পদ অর্জন বা কাউকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে তবে আল্লাহর কাছে তার হিজরতের কোনো ধর্মীয় মূল্য থাকবে না। নিয়ত মূলত অভ্যাস এবং ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে নিয়তের স্থান হলো অন্তর এবং মুখে কোনো বিশেষ বুলি আওড়ানো বা বারবার উচ্চারণ করা অনেক সময় বিদআত ও ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিটি আমলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে হলে অন্তরের পবিত্রতা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু আতিউল্লাহা ওয়া আতিউর রাসূলা ওয়া লা তুবতিলু আমালাকুম।" অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।" (সূরা মুহাম্মদ, ৪৭:৩৩)
আমল বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য ওহীর পদ্ধতি ও এর স্বরূপ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে হারিস ইবনু হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন নবীজিকে ওহীর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে কখনো ওহী ঘণ্টার ধ্বনির মতো তীব্র আওয়াজে আসত যা ছিল তাঁর ওপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও কষ্টকর। আবার কখনো জিবরীল ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে কথা বলতেন। ওহী নাযিলের শারীরিক তীব্রতা এতই প্রবল ছিল যে হাড়কাঁপানো শীতের দিনেও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপাল ঘামে ভিজে যেত। নবুওয়াতের এই গুরুদায়িত্ব পালনের সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে দেখা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। হেরা গুহার নির্জনতায় জিবরীল ফেরেশতা যখন প্রথম আবির্ভূত হন এবং নবীজিকে আলিঙ্গন করে পাঠ করতে বলেন তখন ইসলামের ইতিহাসের সেই মহিমান্বিত প্রথম আয়াতগুলো নাযিল হয়: ﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক। খালাকাল ইনসানা মিন আলাক। ইকরা ওয়া রাব্বুকাল আকরাম।" অর্থ: "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিণ্ড থেকে। পাঠ করুন আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু।" (সূরা আল-আলাক, ৯৬:১-৩)
এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট ফিরে আসেন। মহানুভব এই নারী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন যে আল্লাহ কখনো তাঁকে লাঞ্ছিত করবেন না কারণ তিনি মানুষের সেবা করেন এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন। খাদীজা (রা.) তাঁকে নিয়ে বিজ্ঞ খ্রিস্টান পণ্ডিত ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফালের নিকট যান যিনি নিশ্চিত করেন যে এটি সেই বার্তাবাহক বা নামূস যাকে ইতিপূর্বে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পাঠানো হয়েছিল। এর কিছুকাল পর ওহী নাযিল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে যা নবীজিকে অত্যন্ত ব্যাকুল করে তোলে। অতঃপর একদিন আসমানে ফেরেশতাকে আসীন অবস্থায় দেখে তিনি পুনরায় ভীত হয়ে চাদর মুড়ি দেন এবং নাযিল হয় সূরা মুদ্দাস্সিরের আয়াতসমূহ: ﴿يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ * وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাস্সির। কুম ফা আনজির। ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির। ওয়া সিয়াবাকা ফাতাহহির। ওয়ার রুরজা ফাহজুর।" অর্থ: "হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! উঠুন সতর্ক করুন আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।" (সূরা আল-মুদ্দাস্সির, ৭৪:১-৫)
এরপর থেকে ওহীর ধারা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। ওহী মুখস্থ করার প্রবল ইচ্ছায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিহ্বা নাড়াচাড়া করতেন তখন আল্লাহ তাঁকে আশ্বস্ত করে সূরা কিয়ামাহর আয়াত নাযিল করেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ﴿لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "লা তুহাররিক বিহি লিসানাকা লিতাজিলা বিহ। ইন্না আলাইনা জামআহু ওয়া কুরআ নাহ।" অর্থ: "ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহবা নাড়বেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমার।" (সূরা আল-কিয়ামাহ, ৭৫:১৬-১৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: ﴿فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ * ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ফাইজা কারআনাহু ফাত্তাবি’ কুরআনাহ। ছুম্মা ইন্না আলাইনা বায়ানাহ।" অর্থ: "সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব তো আমারই।" (সূরা আল-কিয়ামাহ, ৭৫:১৮-১৯)
এই ঐশ্বরিক নির্দেশনার ফলে জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন ওহী নিয়ে আসতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চুপচাপ তা শুনতেন এবং পরবর্তীতে হুবহু পাঠ করতেন। বিশেষ করে রমজান মাসে জিবরীল (আ.) প্রতি রাতে এসে নবীজিকে কুরআন শোনাতেন এবং নবীজিও তাঁকে তিলাওয়াত করে শোনাতেন। এই সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল হয়ে উঠতেন। ওহীর এই সত্যতা কেবল মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তৎকালীন বিশ্বনেতারাও এর যৌক্তিকতা অনুভব করেছিলেন। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সাথে কুরাইশ নেতা আবু সুফইয়ানের সংলাপ এর এক প্রকৃষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ। হিরাক্লিয়াস যখন নবীজির বংশমর্যাদা, চারিত্রিক মাধুর্য এবং তাঁর প্রচারিত শিক্ষার কথা শোনেন তখন তিনি বুঝতে পারেন যে ইনিই সেই সত্য নবী যার সুসংবাদ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিরাক্লিয়াসের নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণ করেন যেখানে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আলে-ইমরানের ৬৪ নম্বর আয়াতটি উদ্ধৃত করেন: ﴿قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "কুল ইয়া আহলাল কিতাবি তাআলাও ইলা কালিমাতিন সাওয়ায়িম বাইনানা ওয়া বাইনাকুম আল্লা নাবুদাল্লাল্লাহা ওয়া লা নুশরিকা বিহি শাইয়াওঁ ওয়া লা ইয়াত্তাখিজা বা’জুনা বা’জান আরবাবাম মিন দুনিল্লাহি ফা ইং তাওয়াল্লাও ফাকুলুশহাদু বিআন্না মুসলিমুন।" অর্থ: "বলুন, হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন। তা হল আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত না করি, কোন কিছুকেই যেন তাঁর শরীক সাব্যস্ত না করি এবং আমাদের কেউ যেন কাউকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ না করে আল্লাহকে ত্যাগ করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমরা বলো তোমরা সাক্ষী থাকো আমরা তো মুসলিম।" (সূরা আল-ইমরান, ৩:৬৪)
হিরাক্লিয়াস অন্তরে সত্য অনুভব করলেও ক্ষমতার মোহে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করতে পারেননি কিন্তু তিনি স্বীকার করেছিলেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমতা শীঘ্রই তাঁর পায়ের নিচের ভূমিরও অধিকারী হবে। ওহীর এই গৌরবময় সূচনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ঘটনার গভীরতা বিচার করলে আমরা দেখতে পাই যে ইসলামের প্রতিটি দাবি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো ওহীর এই শিক্ষাকে যথাযথভাবে হৃদয়ে ধারণ করা এবং প্রতিটি কাজের শুরুতে আমাদের নিয়তকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করা। তবেই ইহকাল ও পরকালে আমাদের আমলসমূহ সার্থকতা লাভ করবে এবং আমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সিরাতে মুস্তাকীমের ওপর অবিচল থাকতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন :