বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

সিয়ামের পূর্ণতা: মুখে উচ্চারণ নাকি হৃদয়ের সংকল্পই আসল নিয়ত?

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
সিয়ামের পূর্ণতা: মুখে উচ্চারণ নাকি হৃদয়ের সংকল্পই আসল নিয়ত?

রমজানের পবিত্র সিয়াম: নিয়ত ও সুন্নাহর সঠিক পথ/ Ai

রমজানের পবিত্র দিনগুলোতে মহান আল্লাহর অবারিত রহমতের দস্তরখান আমাদের সামনে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুমিন হৃদয়ের জন্য এটি এক বিশেষ সময়, যখন সে তার রূহের খোরাক খুঁজে পায়। তবে সিয়াম বা রোজার পূর্ণতা নির্ভর করে এর সূচনার ওপর, অর্থাৎ নিয়তের ওপর। অনেক সময় আমরা বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা আরবী শব্দগুচ্ছ মুখস্থ করার পেছনে যতটা শ্রম দেই, নিয়তের গূঢ় রহস্য বুঝতে ততটা সচেষ্ট হই না। অথচ ইসলাম আমাদের শেখায় যে, ইবাদত কেবল অঙ্গ-ভঙ্গির নাম নয়, বরং এটি হলো স্রষ্টার প্রতি বান্দার এক পরম অঙ্গীকার।

নিয়ত: মুখস্থ বুলি নাকি অন্তরের শপথ?

আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু আরবী শব্দগুচ্ছকে রোজার নিয়ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে তাত্ত্বিকভাবে ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে দেখলে, নিয়ত হলো অন্তরের একটি সংকল্প। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিখ্যাত বাণী অনুযায়ী:

“নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহীহ আল-বুখারী, ১)

আপনি যখন সাহরি খাওয়ার জন্য গভীর রাতে আপনার আরামের বিছানা ত্যাগ করেন, তখন আপনার হৃদয়ে যে সাক্ষ্য জাগ্রত থাকে—অর্থাৎ আপনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আজ দিনভর না খেয়ে থাকবেন—এটাই হলো আপনার নিয়ত। আরবী বুলি সরাসরি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত না হলেও অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছাই আপনার রোজাকে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে দেয়।

সাহরি ও ইফতারের সুন্নাহ পদ্ধতি

রোজার প্রতিটি মুহূর্তই বরকতময়, তবে এর দুটি প্রান্ত—সাহরি ও ইফতার—অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সাহরির বরকত: রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহীহ আল-বুখারী, ১৯২৩)। এটি কেবল শারীরিক শক্তির জন্য নয়, বরং আল্লাহর হুকুম পালনের এক বিশেষ মাধ্যম।

ইফতারের দুআ: ইফতারের সময়টি হলো দুআ কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। রাসূল (সা.) শিখিয়েছেন যে, ইফতারের সময় রোজাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (সুনানে তিরমিযী, ৩৫৯৮)।

সহীহ দুআ: ইফতারের পর এই দুআটি পাঠ করা সুন্নাহ: “জাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ” (পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সতেজ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদান সুনিশ্চিত হয়েছে)। (সুনানে আবু দাউদ, ২৩৫৮)।

তাকওয়া অর্জনের সিয়াম

সিয়াম কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়। প্রকৃত রোজা হলো—পেটের সাথে সাথে চোখ, কান এবং জিহ্বারও রোজা রাখা। গীবত, মিথ্যা আর পরনিন্দা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ছাড়া রোজার আসল উদ্দেশ্য বা তাকওয়া অর্জন সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ডাকছেন তাঁর দিকে ফিরে আসতে, আর সিয়াম হলো সেই প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য সেতুবন্ধন।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!