কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীর শেষ রমজান কেমন হবে, যখন পুরো জমিনকে প্রবলভাবে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে এবং চারদিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছড়াছড়ি হবে? সেই সময়ে আসমান থেকে এমন এক ভয়ংকর ও বীভৎস চিৎকার শোনা যাবে, যার কারণে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের কলিজা ফেটে যাবে। কিয়ামতের আগে আসা সেই শেষ রমজানে অসংখ্য মানুষ চিরতরে অন্ধ ও বধির হয়ে যাবে। এই ভয়াবহ রহস্য ও মহাবিশ্বের শেষ পরিণতির ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই মহাবিশ্বকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং এর ধ্বংসের নামই হলো কিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, "ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর, কেবল আপনার মহিমাময় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তাই চিরঞ্জীব থাকবে" (সূরা আর-রহমান, ৫৫:২৬-২৭)।
কিয়ামতের তিন স্তরের নিদর্শনসমূহ হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী তাঁদের উম্মতকে কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এই নিদর্শনগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ১. আলামতে বাইদা: এগুলো অতি প্রাচীন নিদর্শন যা ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে, যেমন নবীজির (সা.) শুভাগমন এবং চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া। ২. আলামতে সুগরা: এগুলো কিয়ামতের ছোট নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমাকে এবং কিয়ামতকে এই দুই আঙুলের মতো কাছাকাছি পাঠানো হয়েছে" (সহীহ আল-বুখারী, ৬৫০৪)। বর্তমান সমাজে জিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি, সুদের বিস্তার, সময়ের বরকত কমে যাওয়া এবং মিথ্যাবাদীদের জয়জয়কার—এগুলো ছোট নিদর্শনেরই পূর্ণতা। নবীজি সতর্ক করেছিলেন যে, কিয়ামতের আগে সময় এত দ্রুত পার হবে যে একটি বছর একটি মাসের মতো মনে হবে (সুনান আত-তিরমিযী, ২৩৩২)। ৩. আলামতে কুবরা: এগুলো কিয়ামতের বড় নিদর্শন, যেমন ইমাম মাহদীর আগমন, ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, দাজ্জালের প্রকাশ এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া।
শেষ রমজানের সেই ভয়ংকর চিৎকার কিয়ামতের একদম নিকটবর্তী সময়ে আসা শেষ রমজান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। বর্ণনানুযায়ী, রমজানের মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৫ই রমজান জুমাবার বা শুক্রবারের রাতে আসমান থেকে একটি বিকট ও হৃদয় কাঁপানো শব্দ বা `সাইহা` শোনা যাবে। এই শব্দ এতই তীব্র হবে যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি আতঙ্কে জেগে উঠবে এবং পর্দানশীন নারীরাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে। এই চিৎকারের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ অন্ধ, বধির এবং জ্ঞানহারা হয়ে পড়বে। সেই বছরটি হবে ভূমিকম্প ও চরম অস্থিরতার।
মুক্তির পথ ও আমাদের করণীয় সাহাবায়ে কেরাম যখন এই বিপদ থেকে বাঁচার উপায় জানতে চাইলেন, তখন নবীজি (সা.) মুক্তির পথ বাতলে দিলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন, ওই সময়ে যেন মানুষ নিজের ঘরের ভেতরে অবস্থান করে, জানালা-দরজা শক্তভাবে বন্ধ করে দেয় এবং একটি পুরু চাদর দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে কানে আঙুল দিয়ে আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সিজদায় গিয়ে অত্যন্ত উচ্চস্বরে `আল্লাহু আকবার` তাকবীর পাঠ করা এবং তওবা করাই হবে একমাত্র রক্ষাকবচ।
পরবর্তী বিপর্যয়: দুর্ভিক্ষ ও বিশৃঙ্খলা নবীজি (সা.) আরও সতর্ক করেছেন যে, এই শব্দের পর দুনিয়া থেকে রিজিক কমে যাবে, তাই অন্তত এক বছরের খাবার সঞ্চয় করে রাখা প্রয়োজন। এরপর শাওয়াল মাসে বিশৃঙ্খলা, জিলকদ মাসে উপজাতীয় বিদ্রোহ এবং জিলহজ মাসে ব্যাপক রক্তপাত শুরু হবে। এই সমস্ত নিদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কিয়ামত অত্যন্ত সন্নিকটে। আমাদের উচিত প্রতিটি মুহূর্ত তওবা ও ইবাদতে অতিবাহিত করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে কিয়ামতের ভয়াবহ ফিতনা থেকে হেফজ করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :